সু চির প্রতি করবিন : রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিন

29

ব্রিটেনে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আচরণে তিনি যেন মানবাধিকারের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখান।

বিবিসির উর্দু বিভাগের আদিল শাজেবকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে করবিন বলেন, “আমরা ম্যাডাম অং সান সু চির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার উদ্দেশে আমার বার্তা হলো- আমরা আপনাকে পছন্দ করি- বহু বছর আপনি যখন গৃহবন্দী ছিলেন আমরা আপনাকে সমর্থন করেছি। আমরা আপনার সমর্থনে মিছিল করেছি, মানবাধিকারের প্রতি আপনার অঙ্গীকারকে আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি।”

সু চিকে উদ্দেশ করে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন ”বর্তমানে রোহিঙ্গা জনগণের প্রতিও সেই মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরুন। তারা যাতে মিয়ানমারের ভেতর পূর্ণ নাগরিকত্ব পায় সেটা নিশ্চিত করুন। তাদের নিজের দেশ থেকে তাদের জায়গাজমি আর ঘরছাড়া যাতে না করা হয় সেটা নিশ্চিত করুন।”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান নারী, পুরুষ ও শিশু দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

রাখাইন থেকে ফিরে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলেছেন তিনি দেখেছেন স্থানীয় রাখাইন যুবকরা জগভর্তি পেট্রল ঢেলে মুসলিমদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিচ্ছে।
রাখাইনের ভেতর বিবিসির ওই সাংবাদিককে ঘোরাফেরা করতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে।
কিন্তু রাখাইন থেকে ফিরে আসার পর তিনি বলেছেন তিনি দেখেছেন বিস্তীর্ণ এলাকা জনশূণ্য- চারিদিকে পোড়া ক্ষেত এবং ফেলে যাওয়া গবাদি পশু।

সর্বসাম্প্রতিক সহিংসতা শুরু হয় যখন স্থানীয় কিছু রোহিঙ্গা মুসলমানের তিরিশটি পুলিশ স্টেশনের ওপর হামলা চালানোর জবাবে সেনাবাহিনী ব্যাপক প্রতিশোধ অভিযান চালায়।
জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী গত প্রায় দু সপ্তাহে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সব নাগরিককে রক্ষা করতে হবে : সু চি
মিয়ানমারের অবিসংবাদিত নেত্রী আং সান সু চি বলেছেন, ‘আমাদের সব নাগরিককে রক্ষা করতে হবে; যারা আমাদের দেশে আছে তাদের পাশাপাশি যারা আমাদের নাগরিক নন, তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। আমরা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখছি।’
মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি বৃহস্পতিবার ‘এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন।

সু চি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সম্পদ যথাযথ নয় এবং পর্যাপ্তও নয়। চাহিদামাফিক আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকলেও আমরা প্রত্যেক নিরীহ নাগরিককে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে, প্রত্যেকে আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।’

সু চি বলেন, ‘কিভাবে সন্ত্রাসী ও নিরীহ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে তা নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। কাশ্মিরে ভারত যে সমস্যা মোকাবিলা করছে সে একই সমস্যার মুখোমুখি আমরাও। আপনারা যারা ভারতে আছেন তারা এ বিষয়টির সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত। কারণ ভারতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর লোক রয়েছে। কাশ্মিরের মতো এলাকা যেখানে আপনাদেরকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে নিরীহ মানুষ যাদের কিনা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একেবারেই সংশ্লিষ্টতা নেই তাদেরকে আলাদা করাটা কষ্টসাধ্য।’

Facebook Comments