বিদ্যুতের দাম বাড়ালে ঘেরাও হরতাল : বামদল

11

বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি, লুটপাট ও রাজনৈতিক অভিলাশ বাস্তবায়ন করার জন্য দাম বাড়িয়ে জনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ করা না হলে ঘেরাও-হরতালসহ যেকোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তারা।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারার প্রতিবাদে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ তারা একথা বলেন।

বাসদ নগর শাখার আহ্বায়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, নগর কমিটির সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন, ইমরান হাবিব রুমন, প্রকৌশলী শম্পা বসু প্রমুখ।

সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বাম মোর্চার নেতা আকবর খান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিপিসি যে দামে তেল আমদানি করবে তার উপর আমদানী শুল্ক, ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদি বাদ দিয়ে পিডিবিকে সরবরাহ করলেই তো দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যথেষ্ঠ কমলেও দেশে কমানো হচ্ছে না।

তারা বলেন, সরকার বলছে বিদ্যুৎ খাত তিন হাজার ৮১৬ কোটি টাকা ঘাটতিতে আছে। তা পূরণ করার জন্য মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বর্তমান রেট থেকে ২৫ পয়সা মূল্য বাড়ানো হলে সরকার পাবে প্রায় এক হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। শুধু ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয় করা, সিস্টেম লস, পরিচালনা ব্যয় ও কুইক রেন্টাল তেল না দিয়ে গ্যাস দিয়ে উৎপাদন করলে বর্তমান অবস্থায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিইআরসি গণশুনানি করার কথা। কিন্তু এর আগেও কয়েকবার শুনানির পর দেশের সব মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীভাবে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বিইআরসি। তাহলে জনগণের মতামত যদি আমলে না নেয়া হয় তবে গণশুনানির এ নাটক কেন বিইআরসি করে। তাই দাম বৃদ্ধি নয়, বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য গণশুনানি করা প্রয়োজন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে। বিইআরসি দাম কমানোর জন্য গণশুনানি না করলে প্রতিবারের মতোই এ গণশুনানি গণপ্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড় ঘুরে, তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম হয়ে তোপখানা রোডে এসে শেষ হয়।

Facebook Comments