খাগড়াছড়িতে বড় দুই দলেই কোন্দল

27

আগামী বছর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবর্ত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বড় দুই দলেই রয়েছে দলীয় কোন্দল। বিএপির দলীয় কোন্দল আত্নপ্রকাশ না পেলেও দলীয় দ্বন্দ্ব – বিভক্তির কারণে কিছুটা মতবিরোধে রয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে দলটির সম্ভাব্যএকজন প্রার্থীর।

আওয়ামী লীগের এই মতবিরোধ সৃষ্টি হয় খাগড়াছড়ির পৌর নির্বাচনে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের সহোদর রফিকুল আলম স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন শানে আলম। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরপক্ষে জাহেদুল আলমের অবস্থান নেওয়ায় এই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।

তবে পরিস্থি শক্তহাতে মোকাবেলা করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন, এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তবে তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, নেতা-কর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন।

বর্তমান এমপি কুজেন্দ্র লালের বাইরেও মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বিক্রম ত্রিপুরা, দলের জেলা সহসভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা এবং বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাসন্তী চাকমা। পৌর মেয়র রফিকুল আলমও মনোনয়ন চাইবেন।

খাগড়াছড়িতে বিএনপির রাজনীতিতে সব সময়ই প্রভাবশালী ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় `ভূঁইয়া` পরিবার। ১৯৯১ সাল থেকে এই পরিবারের সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই গতি আসে বিএনপির রাজনীতিতে। অতীতে সংসদ সদস্য হওয়া ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেনতিনি।

বর্তমানে জেলা বিএনপিতে রয়েছে ওয়াদুদ ভূঁইয়ারই একচ্ছত্র আধিপত্য। চারদলীয় জোট প্রার্থী সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া দুর্নীতির মামলার আসামি হওয়ায় বিএনপি’র অবস্থা কিছুটা নড়বড়ে। সমীরণ দেওয়ান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হলেও জেলা পর্যায়ে দলের কোনো কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। যদিও পাহাড়ি-বাঙালিদের কাছে তাঁর স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। কোনো কারণে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার মনোনয়ন ফসকে গেলে সমীরণ দেওয়ানের কপাল খুলতে পারে বলে বিএনপির মধ্যে কানাঘুষা রয়েছে। এ দু`জন ছাড়াও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ভাতিজা রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুলইসলাম ফরহাদের নাম আলোচনায় এসেছে।

খাগড়াছড়িতে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল। চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ এ আসনে দলেরমনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। সোলায়মান আলম শেঠ জানান, দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনেবড় দুই দলের দুদলের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এবং আঞ্চলিক দলের চাপাচাপির ফল লাঙলে উঠবে।

খাগড়াছড়িতে ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টিরও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএ/জেডএ

Facebook Comments