শ্রীপুরে পুলিশের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের বিরুদ্ধে মাদক মামলা

839

রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া এক ছাত্রকে আটকের পর দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় মাদকের মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর থানা পুলিশের এক উপ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র শ্রীপুর উপজেলার মোশারফ হোসেন বেপারী (২৮)। অভিযুক্ত পুলিশ শ্রীপুর থানার উপ পরিদর্শক(এস আই) আবুল হাসান। ১০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (১৬নং) মামলায় মোশারফকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মোশারফ উপজেলার মাওনার সিংগারদিঘী গ্রামের হেলাল উদ্দিন বেপারীর ছেলে।

মোশারফের পিতা হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সন্ধ্যার মোশারফে নিজের মোটর সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় টহলরত পুলিশ গতিরোধ করে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। সঙ্গে কাগজপত্র না থাকায় হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে তাকে মোটর সাইকেলসহ থানায় নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল কেনার কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখালেও আমার নিরপরাধ ছেলেকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা দাবি করেন শ্রীপুর থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) আবুল হাসান। এক পর্যায়ে আমরা ৩০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করে মোশারফের কাছে ৩৫ পিস ইয়াবা ছিল বলে অভিযোগ তুলেন ওই এসআই।

হেলাল উদ্দিন আরো জানান, রোববার এসআই আবুল হাসান বাদী হয়ে ৩৫ পিস ইয়াবা দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (১৬নং) মামলায় তাকে গাজীপুর জেল হাজতে পাঠান। মোশারফের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, টাকা দিতে না পারায় মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে আমার ছেলের জীবনটা শেষ কইরা দিল পুলিশ। শোনছি ছেলেটারে অনেক মারছে মাদকের কথা স্বীকার করার জন্য।

তবে ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মাদক মামলার বিষয়টি অস্বীকার করে শ্রীপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান বলেন, পৌর এলাকার দারগারচালা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় মোশারফকে ৩৫ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার সাথে থাকে অপর যুবক পালিয়ে যায়। বরিবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (১৬নং) মামলায় মোশারফকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments