এখনো জ্বলছে রোহিঙ্গা গ্রাম : অ্যামনেস্টি

0
13
Print Friendly, PDF & Email

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম–অধ্যুষিত গ্রামগুলো এখনো আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভিডিও ও স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে জানিয়েছে, গ্রামের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবারও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে ।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া ভিডিও এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি শুক্রবার বলেছে, রোহিঙ্গারা ফিরলে তারা যে বসবাস করবে সেই উপায়ও রাখছে না মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা) পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, সু চি গত মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মিয়ানমারে আর কোনো সেনা অভিযান হয়নি। কিন্তু এসব তথ্য–প্রমাণ তাঁর দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

দুদিন আগে জাতিসংঘে ভাষণে মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও বলেন, রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে।

তাদের বক্তব্যের পর অ্যামনেস্টি শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাখাইনে এখনও যে বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, তার অন্তত তিনটি ভিডিও পেয়েছেন তারা।

২২ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহ চিত্রেও রোহিঙ্গা গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর থেকে ওড়া ধোঁয়া চিহ্নিত করার কথাও জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি।

সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, তিন সপ্তাহ পরেও আমরা দেখছি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান হয়নি। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর, গ্রাম জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার কোনো উপায়ই রাখা হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার রাখাইনের হাপর ওয়াট চুয়াং নামে গ্রামের কাছে ধারণ করা ভিডিও এসেছে অ্যামনেস্টির কাছে। তাতে দেখা গেছে, গ্রামের কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও গাছপালা আগুনে পুড়ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানান, মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এবং নজরদারি দলের সদস্যরা গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করে। একই দিন কিছু সময় পরে আবার অগ্নিসংযোগ করা হয় গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়।

ওই গ্রাম থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবিগুলো অ্যামনেস্টি ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যালোচনা করে। সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বরেও ওই গ্রাম থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ওই দিনের ছবিতে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগেও গ্রামে যেসব স্থাপনা ছিল, সেগুলোও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বুথিডং এলাকায় নাগা ইয়ান্ট চুয়াং গ্রামের বাইরে ধারণ করা আরও দুটি ভিডিওর ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি বলছে, গতকাল বিকেলেও সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। রাখাইন রাজ্যের একটি সূত্র অ্যামনেস্টিকে জানিয়েছে, গতকাল স্থানীয় সময় বেলা দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রাখাইনে এই জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার ৪ লাখ রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন