প্রধানমন্ত্রীকে ফের রাশিয়া-চীন-ভারত সফরের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

0
8
Print Friendly, PDF & Email

রোহিঙ্গারা সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে না অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাশিয়া-চীন-ভারত সফরে যাওয়ার ফের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ফল বৈঠকের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব আজ শুক্রবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় বলেন, চীন, রাশিয়া, ভারত আজকে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা প্রথমদিন থেকে বলে আসছি- প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর এখন চীন, রাশিয়া, ভারতে গিয়ে তাদেরকে কনভিন্স করা উচিৎ এবং বলা দরকার যে এটা আমাদের জন্য বিশাল একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিশ্ব বিবেককে আবেদন জানাই, এখন আর সময় নেই। আপনারা এগিয়ে আসুন। মিয়ানমারকে বাধ্য করুন তাদেরকে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং এই নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।
রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কি দেশে আমরা বাস করছি, কী পৃথিবীতে আমরা বাস করছি যেখানে মনুষ্যত্ব ও মানবতার কোনো মূল্য নেই! শুধু ক্ষমতা আর অর্থনৈতিক স্বার্থই বড়ো হয়ে দাঁড়ালো? কী কারণে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশ মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে। কী কারণে ভারত সমর্থন দিচ্ছে? অথচ যারা গণতন্ত্র, মানবাধিকারের জন্য বিশ্বে নন্দিত তারা আজকে কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? বলেছেন আমরা ত্রাণ পাঠিয়েছি। এটা জুতা মেরে গরু দানের মতো অবস্থা আর কী? একদিকে খুন করছো, হত্যা করছো, আমার স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে ফেলেছো অন্যদিকে বলছো ত্রাণ পাঠাচ্ছি। বন্ধ করো এই গণহত্যা।’
রাজধানীতে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সভা কক্ষে জিয়া সাংস্কৃতিক সংস্থা (জিসাস) এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমান সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসেম রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের কোনো ত্রাণ নেই অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার ও আওয়ামী লীগের কোনো ত্রাণ এখন পর্যন্ত নেই। যা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ, উখিয়া-টেকনাফে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাচ্ছে। আজকে বিদেশ থেকে এতো ত্রাণ সামগ্রী আসছে, সেখানে গিয়ে শুনিনি যে, বিদেশী ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। এতোদিন পর সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেই সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছে। আমরা গতকালও বলেছি সেনাবাহিনী পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হোক যাতে করে শেড নির্মাণ, খাবার সরবারহ ও তাদের নিরাপত্তা দিতে পারে।’
রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় আবারো জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিদর্শন করে আসা বিএনপি মহাসচিব আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তারা কী মানবেতর জীবনযাপন করছে কল্পনার বাইরে। মাথার ওপর ছাদ নেই। ছোট ৫/১০ দিনের শিশুকে বুকের মধ্যে নিয়ে একটা ছোট প্লাস্টিকে ঢেকে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, আমি দুঃখিত মাঝে মাঝে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। এজন্য যে, হয়তো এখনো পুরোপুরি রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে পারিনি। একটি জাতিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করবার জন্য মিয়ানমার সরকার কাজ করছে, আমরা চুপ করে বসে আছি, এমনকি একটা শক্ত কথাও বলি না। খেয়াল করে দেখবেন এখন পর্যন্ত গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সরকারকে বাংলাদেশ সরকার দায়ী করেনি, এখন পর্যন্ত এ সরকার মিয়ানমার সরকারের নিন্দা জানায়নি।
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন কী চাপ দিচ্ছে তারা? আনান কমিশনের যে সুপারিশ, সেই সুপারিশ দিয়ে কাজ করতে হবে। সুপারিশটা উনারা পড়েছেন কি না জানি না। সেখানে একবারও রোহিঙ্গাদের কথা বলা হয়নি, রাখাইনবাসীদের কথা বলা হয়েছে। সেই সুপারিশে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয় নাই। আমরা বার বার বলে এসেছি, এই শরণার্থী যারা, সরকার তাদেরকে শরণার্থী স্বীকার করতে রাজি না, বলছে অনুপ্রবেশকারী। জানি না এর মধ্যে কী ডিপ্লোমেসি আছে। যারা দেশ-জমি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে চলে এসছেন অন্যদেশে, আমরা তাদের শরণার্থী বলি। আমরাও তো ভারতে ছিলাম শরণার্থী হিসেবে একাত্তর সালে। আমরা বলেছি, তাদেরকে আশ্রয় দিতে হবে সাময়িকভাবে এবং তাদেরকে ফেরত পাঠাতে হবে স্বসন্মানে তাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে।’
সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচদিনে পাঁচ জনকে গুম করা হয়েছে। একজনকে দয়া পরবশ হয়ে মৌলভীবাজারে ছেড়ে দিয়েছে। এ কোন দেশে কোন রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করি যেখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। ফরহাদ মজহারের মতো বিশিষ্ট মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং রাত্রিবেলা তাকে পাগল বানিয়ে ফেরত দিয়ে দেয়। আজকে কয়েক হাজার মানুষ গুম হয়ে গেছে, নিখোঁজ হয়ে গেছে। এই হচ্ছে দেশের গুম ও হত্যার সংস্কৃতি। আমাদের নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলায় পড়ে গেছে।’

Facebook Comments
শেয়ার করুন