কাতালোনিয়ার স্বাধীনতায় জটিলতায় মেসিরা

0
20
Print Friendly, PDF & Email

রোববার ন্যু ক্যাম্পে দর্শকদের বাদ দিয়েই খেলে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব৷ মঙ্গলবার কাতালোনিয়ায় সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে এই কিংবদন্তিপ্রতিম ক্লাব৷ কিন্তু আগামীতে কোথায় খেলবে ‘বার্সা?
সোমবারেই প্রশ্নটা তোলেন এফ সি বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোসেপ মারিয়া বার্তোমিউ৷ ‘‘(কাতালোনিয়ার) স্বাধীনতার ক্ষেত্রে (বার্সেলোনা) ক্লাব ও তার সদস্যদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কোন (ফুটবল) লিগে খেলব,” একটি বোর্ড সভার পর সাংবাদিকদের বলেন বার্তোমিউ৷
‘‘আমরা একটি সংকটপূর্ণ ও জটিল মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, সে প্রসঙ্গটি আমরা শান্তি ও বিজ্ঞতার সঙ্গে বিবেচনা করব,” বলেন বার্তোমিউ৷
কাটালান ক্রীড়ামন্ত্রী জেরার ফিগেরাস গত সপ্তাহেই স্পষ্ট করে দেন, কাটালুনিয়া স্পেন থেকে স্বাধীনতা পেলে, বার্সেলোনা অন্য কোনো দেশেও খেলতে পারে৷
‘‘স্বাধীনতার ক্ষেত্রে লা লিগার কাটালান দলগুলোকে – অর্থাৎ বার্সেলোনা, এস্পানিওল ও জিরোনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোথায় খেলতে চায় : স্পেনীয় লিগে, নাকি ইটালি বা ফ্রান্সের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশে, নাকি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে,” বলেন ফিগেরাস৷

বার্সার প্রেসিডেন্ট বার্তোমিউ দাবি করেন, দর্শক ছাড়া খেলার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল, কাতালোনিয়ায় যা ঘটেছে ও ঘটছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো৷ এছাড়া বিভিন্ন বার্সা সমর্থক গোষ্ঠী মাঠে ঢুকে খেলা ভণ্ডুল করার হুমকি দিয়েছিল বলেও বার্তোমিউ জানান৷
সব সত্ত্বেও দর্শকবিহীন খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃশ্যত বার্সার পরিচালকমণ্ডলীতে মতপার্থক্য ছিল, কেননা, সোমবার বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠকের পর বার্তোমিউ দু’জন বোর্ড সদস্যের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন৷ তারা হলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লেস ভিলারুবি ও পরিচালক ইয়র্দি মোনেস৷
একইসঙ্গে বার্তোমিউ এ-ও ঘোষণা করেন যে, বার্সা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবে৷ এস্পানিওল ও জিরোনা ক্লাব দু’টিও সোমবার ঘোষণা করে যে, তারা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে৷ বার্সার সোমবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘এফসি বার্সেলোনা ‘গণতন্ত্রের টেবিল’ আন্দোলনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে৷ কাজেই আগামীকাল ক্লাব বন্ধ থাকবে৷ (ক্লাবের) পেশাদারি বা যুব দলগুলো আগামীকাল ট্রেনিং করবে না৷”
লিওনেল মেসি ও জেরার্ড পিকেসহ বার্সেলোনার ফুটবল তারকাদের অনেকেই মঙ্গলবার ক্লাবের হয়ে ট্রেনিং করতেন না, কেননা, তারা সেদিন নিজের নিজের জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন৷
পিকের চোখে পানি
বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে কাটালুনিয়ার স্বনির্ধারণের অধিকারের জ্বলন্ত প্রবক্তা – রোববার সন্ধ্যায় তাঁর চোখে ছিল পানি৷ কিন্তু সেদিন সকালে পিকে বিনা বাধায় গণভোটে তার ভোট দিতে পেরেছেন৷
‘‘আমি কাটালুনিয়া ও তার সব মানুষের জন্য খুবই গর্বিত,” দর্শকশূন্য ন্যু ক্যাম্পে লাস পালমাস-এর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন পিকে৷ আরো বলেন, ‘‘স্পেন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সব প্ররোচনা সত্ত্বেও, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন৷”
রোববারের খেলা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টার কম আগে দর্শকদের মাঠে না ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ৯৯,০০০ দর্শকের স্টেডিয়ামের সামনে ফ্যানরা তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে৷ ‘‘আমি হলে খেলতাম না,” কাটালুনিয়ার একটি বেতার কেন্দ্রকে বলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলা৷
অপরদিকে স্পেনের জাতীয় দলে পিকে’র ভূমিকা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ সোমবার পিকে জাতীয় দলের একটি ট্রেনিং সেশনে যোগদান করেন; সেখানে মাত্র কয়েক শ’ দর্শক থাকলেও, পিকে-কে ধ্বনি শুনতে হয়, ‘‘পিকে, জাতীয় দল ছাড়ো!” পিকে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, প্রথমত তিনি আগামী বছরের বিশ্বকাপের পরেই জাতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণের ইচ্ছা রাখেন; দ্বিতীয়ত, জাতীয় দলের কোচ অথবা দেশের ফুটবল ফেডারেশন তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমস্যাজনক মনে করলে, তিনি তার আগেও যেতে রাজি৷ ইত্যবসরে পিকে যথারীতি কাটালুনিয়ায় পুলিশি নির্মমতা নিয়ে টুইট করে চলেছেন৷

Facebook Comments
শেয়ার করুন