সীমান্তের কাছে বাংকার খুঁড়ছে মিয়ানমার বাহিনী

0
36
Print Friendly, PDF & Email
মিয়ানমার সেনাবাহিনী

আরাকানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মমতা থেমে নেই। প্রতিদিনই রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় তারা অগ্নিসংযোগ করছে। আরাকানে একজন রোহিঙ্গা মুসলিমকেও থাকতে দেয়া হবে না- এমন কঠোর মনোভাব নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান ও গণবিতাড়ন অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী। বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে সীমান্তের ওপারে নাফ নদীর তীরে, বনে-জঙ্গলে অবস্থান নিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। চার দিন ধরে নাফ নদীর তীরে আটকে আছেন বুচিডংয়ের হাজারো রোহিঙ্গা। তারা খেয়ে-না-খেয়ে, রোদে পুড়ে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশে আসার জন্য। এ অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়ো হওয়া ও প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে ১০টি শিশু মারা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজে ৪০-৫০টি শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১০-১২টি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাতে প্রবল বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা পাহাড়ের ঢালুতে গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ার জন্য নদীর তীর থেকে পাহাড়ের দিকে যেতে চাইলে মিয়ানমারের সেনারা তাদের আটকে দেয় এবং নদীর দিকে ধাওয়া করে। এসব আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, কোলের শিশু কোলেই মারা পড়বে যদি তাদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হয়। এভাবে আর ক’দিন গেলে বৃদ্ধরাও মারা পড়বেন। তিনি আটকে পড়া এসব রোহিঙ্গাকে উদ্ধার ও শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন। এভাবে প্র্রতিদিনই বাংলাদেশে এসে প্রাণে বাঁচার আকুতি নিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদীর ওপারে জড়ো হচ্ছেন। তারা বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন এমন কয়েকটি ভিডিও এপারে তাদের আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়েছেন।

নাফ নদী পার হওয়ার জন্য নৌকা না থাকায় তারা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। এসব রোহিঙ্গার সাথে থাকা খাদ্যও শেষ হয়ে গেছে। অভুক্ত শিশুরা কাদছে। ৮-১০ দিন ধরে তাদের চোখে ঘুম নেই। ক্লান্ত শরীর। চোখগুলো কোটরে ঢুকে গেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই একই অবস্থা। এসব রোহিঙ্গা জানান, তারা শেষ পর্যন্ত চেয়েছিলেন নিজ দেশে থেকে যেতে। অনেক দিন পালিয়েছিলেন আরাকানের পাহাড় ও ঝোপ-জঙ্গলে। রাত কাটাচ্ছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।

এ দিকে শুক্রবার মধ্যরাতে বুচিডংয় টাউনশিপে রোহিঙ্গাদের অন্তত ৩০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ ছাড়া প্রাণহানির আশঙ্কায় আশপাশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বাড়িতে প্রতিদিনই আগুন দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার মধ্যরাতে সীমান্ত শহর মংডু পৌরসভার সুধা গ্রামে আগুন দেয় সেনাবাহিনী। টেকনাফ পৌর এলাকা থেকে ওই আগুনের শিখা দেখেছেন সীমান্তের অধিবাসীরা। বৃহস্পতিবার নয়াপাড়া, পূর্ব পাড়া, পশ্চিম পাড়া, সুন্দরী পাড়া ও মাঙ্গালা পাড়ায় আগুন দেয় সেনা সদস্যরা। এ সময় শতাধিক রাখাইন মুসলিমবিরোধী স্লোগান দিয়ে রোহিঙ্গাদের ধাওয়া করে। গোদাম পাড়া নামক স্থানে নাফ নদীর পাশে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েক দিন ধরে ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী।

সেখানে কাপড় ও পলিথিন দিয়ে ছোট ছোট তাঁবু বানিয়ে তারা অবস্থান করছেন। সেনাবাহিনী তাদেরকে কোথাও যেতে দিচ্ছে না। তাদের কাছে থাকা মোবাইলও কেড়ে নিচ্ছে সেনারা। এসব রোহিঙ্গার খাদ্য ও পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেখানের এক রোহিঙ্গা শুক্রবার গোপনে তার আত্মীয়দের কাছে একটি ভিডিও পাঠিয়ে এ অবস্থার বর্ণনা দেন। এখন তাদেরকে নিয়ে সেনারা কী করবে তা নিয়ে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

অন্য দিকে সীমান্তে স্থলমাইন পাতা, কাঁটাতারের বেড়া, বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগের পর এবার সীমান্তের কাছে বাংকার খনন করছে মিয়ানমারের সেনারা। এক সপ্তাহ ধরে বাংকার খনন চলছে। সীমান্তের তমব্রু থেকে লেবুছড়ি এলাকার বিপরীতে মিয়ানমারের ঢেকুবুনিয়া থেকে আমতলা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক শ্রমিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এ কাজ করছে। পাশাপাশি এসব শ্রমিকের নিরাপত্তার জন্য সীমান্তের জিরোপয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা। তারা তিন ভাগে ভাগ হয়ে ভারী অস্ত্র কাঁধে নিয়ে টহল দিচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশীরা এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

ওপারের তমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গারা জানান, ঢেকুবুনিয়া, পুরান মাইজ্জা, লম্বাবিল, সিকদারপাড়াসহ তাদের এলাকার সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন গ্রামে গত মঙ্গলবার থেকে বাংকার খনন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এর আগে তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। গত কয়েক সপ্তাহে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ১১ রোহিঙ্গা এবং শতাধিক প্রাণী মারা গেছে। সর্বশেষ মারা গেছেন মিয়ানমারের বলিবাজারের আবুল কাসিমের ছেলে নুরুচ্ছাফা (৩৪)। ৩ অক্টোবর সকাল ১০টায় সীমান্তের ৪৪ নম্বর পিলারের বিপরীতে মিয়ানমারে মাইন বিস্ফোরণে তিনি মারা যান।
গত শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নো ম্যানস ল্যান্ডে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার দেখেছেন সীমান্তে অবস্থানকারী লোকজন। তারা এভাবে নিয়মিত টহল দেয়। মাঝে মধ্যে গুলি ছোড়ে। বাংলাদেশ থেকেও গুলির শব্দ শোনা যায়। তারা জানান, শুধু তমব্রু সীমান্ত নয়, বাংলাদেশের চাকমা পাড়া ও বাইশারী সীমান্ত এলাকায়ও অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিতে তারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘনজঙ্গলে অবস্থান করেন বলে জানান স্থানীয়রা। তমব্রু-চাকমা পাড়া ও বাইশারী এলাকার জিরোপয়েন্ট বা নো ম্যানস ল্যান্ডে অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, প্রতিটি দেশ যার যার নিরাপত্তার জন্য সব কিছু করবে। বাংকার খনন মানে এই নয় যে, তারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তিনি জানান, মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হলে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সমাধান করবে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সীমান্তে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, আমরা একে হুমকি মনে করছি না। অন্য দিকে আমাদের যা যা করা প্রয়োজন তা করছি।

রাখাইন সঙ্কট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে চলতি মাসে বৈঠক

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ চলতি মাসেই রাখাইন সঙ্কট নিয়ে আরো একটি বৈঠকের আয়োজন করবে। অনানুষ্ঠানিক এই বৈঠকে মাঠপর্যায়ে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এতে রাখাইন সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উপায় পর্যালোচনা করা হবে। বৈঠক শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিবৃতি দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ফ্রান্সের প্রতিনিধি ফ্রেনকোসিস ডিলেট্রি জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি মাসে তিনটি ইস্যু অগ্রাধিকার পাবে। এগুলো হচ্ছে : জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঝুঁকি, মিয়ানমারের চলমান সঙ্কট এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনায় ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেছিলেন, অক্টোবরে তার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করবে। এ সময় মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর ফ্রান্সের পূর্ণ মনোযোগ থাকবে। ব্রিটেনের সহায়তায় ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার আয়োজন করব। এতে অন্যান্য আলোচকের সাথে কফি আনানও থাকবেন। তিনি বলেন, এ আলোচনায় মিয়ানমারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আরো বেশি জানতে পারব। একইসাথে কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে, সেটির বাস্তবায়ন কিভাবে করা যায়, আমরা এ বিষয়ে কী করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ বৈঠকে জাতিসঙ্ঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ এবং বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করেই নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েও ভেটো ক্ষমতার অধিকারী প্রভাবশালী এই দুই দেশকে নিরাপত্তা পরিষদে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে সম্মত করাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং চীন ও রাশিয়ার সমর্থনে বলীয়ান হয়ে মিয়ানমার নিরাপত্তা পরিষদে দম্ভভরে ঘোষণা করল, রাখাইনে কোনো জাতিগত নিধন বা গণহত্যা চালানো হচ্ছে না। রাখাইন সঙ্কট ধর্মীয় নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

মিয়ানমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে যে হিতে বিপরীত হতে পারে এমন আশঙ্কা নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনেরও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে রাখাইন পরিস্থিতির ওপর এক শুনানিতে বলা হয়েছে, সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সহায়তা স্থগিত রাখা যায়। তবে এতে পরিস্থিতি যাতে আরো খারাপের দিকে না যায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
শুনানিতে সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপসহকারী মন্ত্রী পেট্রিক মার্ফে বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়াতে পারেÑ এ ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিতে চাই না। জটিল এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।

মিয়ানমার সফর শেষে বাংলাদেশে আসা ব্রিটেনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডের বক্তব্যে বিষয়টি আরো পরিষ্কার ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কের একদিন আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সু চির সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের দিকে যাওয়া উচিত। কেননা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সু চি ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবে। তাতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। সু চি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে একটি উপযুক্ত পথ বের করার চেষ্টা করছেন।

রাখাইনে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেয়া নতুন-পুরনো মিলিয়ে ৯ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে অসহনীয় পরিস্থিতির কথা নিরাপত্তা পরিষদের তুলে ধরেছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছিল সরকার। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে সেই প্রস্তাব অনুমোদনে বড় বাধা হয়ে রইল বাংলাদেশেরই বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নিধনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কড়া সমালোচনা করেছে ঠিকই। কিন্তু এই নৃশংসতা বন্ধ করে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেনি। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আয়োজনটির অর্জন কেবল বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

তবে এই অর্জনটিকেও খাটো করে দেখছেন না কূটনীতিকেরা। কেননা চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে মিয়ানমার ইস্যুতে কোনো উন্মুক্ত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অজুহাতে গত অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ইস্যুটি নিয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিল চার দফা রুদ্ধাদ্বার বৈঠক করেছে। কিন্তু এসব বৈঠকের পর বিবৃতি দিতে বাধা দেয় চীন। তবে গত ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান সীমা ছাড়িয়ে গেলে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত অভিমুখে উদ্বাস্তুদের বাঁধভাঙা ¯্রােত নেমে এলে বিশ্ব জনমতের প্রেক্ষাপটে ১৪ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধাদ্বার বৈঠকের পর একটি কড়া বিবৃতি দেয়া হয়। নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রায় ৯ বছর পর কোনো ইস্যুতে এমন বিবৃতি দেয়া সম্ভব হলো। বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সেখানে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

Facebook Comments
শেয়ার করুন