শ্রীপুরে শিক্ষকের অনিয়মের তদন্ত করায় শিক্ষা অফিসারকে হুমকি

0
33
Print Friendly, PDF & Email
Sreepur Map

শ্রীপুর রিপোর্টার
শ্রীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় তেলিহাটি ইউনিয়নের ২০ নং টেপিরবাড়ি (ছাতির বাজার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদের অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

উল্লেখ্য গত ০৯/ ০৫/ ২০১৭ তারিখে লুৎফর রহমান ফরহাদের বিরুদ্ধে বেআইনি অনৈতিক ও বিধি- বহির্ভূত কার্যকলাপের অভিযোগ দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত মোট ১৭ টি লিখিত অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৩/০৭/ ১৭ তারিখে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আকরাম হোসাইন ও এমদাদুল কবীর খান মোট ১৭ টি অভিযোগের ভিত্তিতে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার মন্তব্য ও সুপারিশমালা শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি মহোদয়ের প্রতিনিধি ও উপজেলার এমপি মনোনীত দুইজন শিক্ষক সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির নিকট পেশ করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা করেন না; এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা জনাব মো: রমজান আলীর লিখিত বক্তব্যে তাকে ক্লাস্টার থেকে বের দেওয়া ও তার সম্পর্কে কুৎসা রটানোর বিষয় জানা যায়। লুৎফর রহমান ফরহাদ টেপিরবাড়ি মর্ডাণ কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাই স্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে আছেন যার প্রমাণ উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রসপেক্টাসে এবং তার অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ( মাস্টার ইলেকট্রনিক্স এন্ড ফার্নিচার) থাকার প্রমান পাওয়া গেল।

এসব ব্যাপারে তিনি আত্ম পক্ষ সমর্থনে কোন বক্তব্য দিতে সম্মত হননি ও লিখিত বক্তব্য প্রদান করেননি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। স্কুল চলাকালীন সময়ে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেন। এবং তার নিজস্ব কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়তে উৎসাহিত করেন। এ

সব বিষয়ে তদন্ত করার কারণে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতি রাগান্বিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেস বুকে নিজের আইডিতে কুরুচি সম্পন্ন পোস্ট করা ও অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে মান সম্মানের ক্ষতি করা সহ হুমকি ধমকী দিচ্ছে। তাছাড়াও ২০১১ সালের ৮ ই জুন তারিখে লুৎফর রহমান ফরহাদের বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষকের চাকুরির বিধি লংঘন করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহনের অভিযোগ করে তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মালবিকা ভৌমিকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অবাধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতায় বাধা দেয়ার তিনি এতটা ক্ষিপ্ত হয়ে বর্তমান শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রেহেনা আক্তার বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আরও জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সত্যতা পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সপারিশ করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, জনাব মো: লুৎফর রহমান ফরহাদের নামে অত্র অফিসের দুইজন কর্মকর্তা সরেজমিনে ঐ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ সমুহের সত্যতা পায় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস শ্রীপুর, গাজীপুরের বিভিন্ন অফিসের তথ্যাদি ও কর্মকর্তা সম্পর্কে অশালীন মক্তব্য করেন।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটিতে বিষয়টি উত্থাপিত হলে তার এরূপ ভারসাম্যহীন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এসব ব্যাপারে লুৎফর রহমান ফরহাদের সাথে ফোনে কথা বলতে চাইলে বার বার তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দুইবার তিনি শাস্তি মূলক বদলী হয়েছেন। গত ১৯/০১/১৭ তারিখে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান বরাবর তার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

Facebook Comments
শেয়ার করুন