ক্ষমতাসীনরা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে হানাহানি করেছিল : খালেদা জিয়া

0
14
Print Friendly, PDF & Email

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তৃতীয় দিনের মতো আজ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদাহরণ সেই দাবীকে প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে।

আদালতকে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আপনি সাহস ও সততার সঙ্গে সরকারের প্রভাব মুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করবেন।’

কেউ কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেন, কেউ শিক্ষা নেন না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, যারা শিক্ষা নেন তারা সম্মানীত হন। আর যারা শিক্ষা নেন না তাদের জায়গা হয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছে সেই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, একসময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত ইসলামী মিলে দেশে কি ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তা আপনি জানেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের নামে কি সহিংস হানাহানি ও নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করেছিল, তা সকলেই জানেন।

রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়া আবারও স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন আদালত। পরে বিচারক ১৬ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আজ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছান। এরপরই খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্থায়ী জামিনের আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকে বলেন, ‘আমি এই পেশায় ৫০ বছর ধরে আছি। কোনোদিন শুনিনি কাউকে সপ্তাহে সপ্তাহে জামিন নিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে এসে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এক সপ্তাহের জন্য তিনি জামিন পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে ছিলেন। সে সময় তিনি জামিনের অপব্যবহার করেননি। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমি মনে করি, তিনি স্থায়ী জামিন পেতে পারেন, তাকে স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করা হোক।

আদালত স্থায়ী জামিনের ব্যাপারে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন। এর পরই আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনের মতো নিজের বক্তব্য শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

Facebook Comments
শেয়ার করুন