দেশব্যাপী গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সংবাদ সম্মেলন

0
37
Print Friendly, PDF & Email

১০ নভেম্বর মহা-সমাবেশ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে গাজীপুর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-স্বাস্থ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রথমে সংবাদ সম্মেলনটি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরে পুলিশি বাঁধার মুখে করতে না পেরে তিনি সাংবাদিকদের ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন

আপনারা জানেন যে, দেশ ও জাতি আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

তিরিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার পতাকা আমরা পেয়েছিলাম, আজকে সেই স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব চরম ভাবে হুমকির সম্মুখীন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ‘৬২ এর শিক্ষার আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণ অভ্যুত্থ্যান, ‘৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, সর্বোপরি ‘৯০ এর গণ অভ্যূত্থ্যানে শত শত ছাত্র, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে যে গণতন্ত্রকে আমরা পূণরুদ্ধার করেছিলাম, আজ দীর্ঘ ৯ বছরের দু:শাসনে সেই গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে। শহীদ নূর হোসেন, ডা: মিলন সহ শত শহীদের আত্মা আজ ঘুমরে কাঁদছে। সমস্ত জাতির বুকে চেপে বসেছে এক নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদী শাসন।

এই অনির্বাচিত সরকারের শাসনামলে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসনতো দূরের কথা, আজকে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পর্যন্ত নেই। সমস্ত দেশ আজ পরিণত হয়েছে এক সন্ত্রাসের জনপদে। যেখানে প্রতিটি মুহুর্ত কাটে গ্রেফতার, গুম-খুন আর বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের আতঙ্কে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চারণ ভূমি আমাদের এই শ্রীপুর, আমাদের এই গাজীপুর। যেখানে ১৯শে জানুয়ারী ১৯৭১ সালে রচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন। গাজীপুরের বীর জনতা গড়ে তুলেছিল সেই প্রতিরোধ আন্দোলন। আর আজ সেই গাজীপুরেই প্রতিটি গণতন্ত্রমনা মানুষকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এই অনির্বাচিত সরকারের মদদে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে নির্মম নির্যাতন নেমে এসেছে, তা অতীতে অত্র এলাকার মানুষ কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা, বিরোধীদের উপর যে নির্মম নির্যাতন চলছে তা আমার চেয়ে আপনারা বেশী অবগত রয়েছেন।

তিনি বলেন, আজকে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর গণতন্ত্রের নূন্যতম শর্ত ‘ভোটাধিকার’, শুধুমাত্র এই দাবী উচ্চরন করতে যেয়ে আজ কি পরিমান নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা আপনারা প্রতি নিয়ত প্রত্যক্ষ করছেন।

অতিসম্প্রতি আপনারা লক্ষ্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আহুত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১২ই নভেম্বরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সমগ্র শ্রীপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল।

গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে আমাদের শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির সহ ছাত্রনেতা রাসেল, শ্রমিক নেতা আমান, সাবেক কাউন্সিলর হারিস মাঝিসহ আরো অনেককে। বাড়ী বাড়ী হানা দিয়ে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে দেশব্যাপী আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার হুলিয়া নিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছেন। তাদের জীবন আজ বিপন্ন। তাদের পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে কি রাজনীতি করার কারণে এই মানুষগুলো বাঁচতে পারবে না? কি তাদের অপরাধ? ‘আমার ভোট আমি দিব’ এইটুকু চাওয়ার অপরাধেই কি তারা আজ ফেরারী? চিকিৎসা পাচ্ছেন না তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্বজনেরা, অভুক্ত থাকে তাদের সন্তানেরা, যেতে পারে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

তিনি বলেন, সচেতন সাংবাদিক ভাইরেরা, আপনাদের মাধ্যমে আমরা আহবান জানাতে চাই, অবিলম্বে আমাদের সভাপতি শাহজাহান ফকির, আমান ও রাসেল সহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। বাড়ী বাড়ী সকল পুলিশী হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা জনাব তারেক রহমান ও মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

যেই ভোটাধিকার, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য জনগনের আজকের এই লড়াই, এত ত্যাগ শিকার, সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এবং জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই নিদলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে।

আমাদের নেতাকর্মীদের এই জুলুম নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পূণরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার জন্য প্রিয় সাংবাদিক ভাই, আপনাদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

আগামী দিনে শ্রীপুর-গাজীপুরে দূর্নীতি মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের সহযোগীতার হাতকে প্রসারিত করবেন, এই প্রত্যাশা করছি।

সর্বশেষ তিনি উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের প্রতি কষ্ট করে এখানে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

Facebook Comments
শেয়ার করুন