বিজয়’৭১ আজ শ্রীপুর মুক্ত দিবস

0
50
Print Friendly, PDF & Email

শ্রীপুর সংবাদদাতাঃ
আজ শ্রীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত হয়েছিল শ্রীপুর। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমুখী আক্রমনে রাতের আঁধারে শ্রীপুর ছেড়ে পালিয়ে ছিল হানাদার বাহিনী। ভোরের সূর্য উঠতেই গাজীপুরের শ্রীপুরের মাটিতে উড়েছিল লাল সবুজের পতাকা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রীপুরের ইতিহাস ও কৃষ্টি বই সূত্রে জানা যায় ‘৭১ এর ১৮ এপ্রিল হানাদার বাহিনী শ্রীপুরে অবস্থান নেয়। শ্রীপুর থানা, গোসিংগার কাচারী বাড়ী , কাওরাইদ রেলষ্টেশন, সাতখামাইর ষ্টেশন, গোলাঘাট ব্রীজ, ইজ্জত পুর ব্রীজ, বলদি ঘাট হাইস্কুল ও গাজীপুরে গড়ে তোলা হয় ৮টি পাক সেনা ক্যাম্প। রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস থেকে ট্রেনযোগে শ্রীপুরে ছিল হানাদারদের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। শ্রীপুর থানায় ছিল হানাদারদের প্রধান ঘাঁটি। স্থানীয় রাজাকার, আলবদর, আলসামছদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী নিরীহ নারী পূরুষ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ধরে এনে এসব ক্যাম্পে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করতো। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ায় কেওয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম আকন্দের পিতা আলমগীর বাদশা আকন্দকে ধরে এনে শ্রীপুর থানা ক্যাম্পে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সাত খামাইরে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাস ফায়ারে হত্যা করা হয় সাত নিরীহ ব্যক্তি কে। শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন বদ্ধ ভূমি ও সাত খামাইরের গন কবর আজ ও হানাদার বাহিনীর বর্বরতার স্বাক্ষ্য বহন করে । হানাদার বাহিনীর উপর প্রতিশোধ নিতে মুক্তিযোদ্ধরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আক্রমনের ছক তৈরি করেন । যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নূর মোহাম্মদ ফকিরের নেতৃত্বে উড়িয়ে দেয়া হয় রাজা বাড়ীর পারুলী নদীর ব্রিজ। গোসিংগা, কাওরাইদ, ইজ্জতপুর, গোলা ঘাট ও সাতখামাইরে দু‘টি সহ ছয়টি সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। মুক্তি যোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমনের মুখে হানাদার বাহিনী বিভিন্ন ক্যম্প থেকে পিছু হটতে শুরু করে । মুক্তিযোদ্ধাদের একের পর এক গেঁড়িলা আক্রমনে মনোবল ভেঙ্গে যায় হানাদারদের । ৭ ডিসেম্বর জেড আই সুবেদের নেতৃত্বে ইজ্জতপুর ব্রীজ সেনাক্যম্পে হামলা করে মুক্তিযোদ্ধারা । রাতভর প্রচন্ড যোদ্ধে হানাদারদের বুলেটবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন গোসিংগা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাহাব উদ্দিন । হানাদার বাহিনী বনের ভিতর পুঁতে রাখে সাহাবদ্দিনের মরদেহ। পাক সেনারা একে একে সব ক্যাম্প গুটিয়ে নিয়ে শ্রীপুর থানা ক্যাম্পে গড়ে তুলে শক্ত অবস্থান। মুক্তিযোদ্ধারা চার দিক থেকে থানা ক্যাম্প ঘিড়ে ফেলে। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমন। বন্ধ করে দেয়া হয় হানাদার দের রশদ,খাদ্য সরবরাহ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক নূর মোহাম্মদ ফকির জানান মুক্তিযোদ্ধদের প্রচন্ড আক্রমনে হানাদার বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পরে। শহীদ হওয়ার চারদিন পর ১১ ডিসেম্বর বিকেল পোনে পাঁচটার দিকে তার নেতৃত্বে এক দল মুক্তিযোদ্ধা ইজ্জত পুর থেকে শহীদ সাহাবদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের অভিযান চালায়। এ সময় হানাদার বাহিনীর টহল ট্রেন থেকে মুক্তিযোদ্ধা দের সাথে পাল্টা পাল্টি গুলি বর্ষণ চলে। ১১ডিসেম্বর রাতের আঁধারে হানাদার বাহিনী শ্রীপুর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ১২ ডিসেম্বর ভোরে শ্রীপুর সম্পূর্ণ রুপে হানাদার মুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরে। উল্লাসিত জনতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। শ্রীপুরের মাটিতে পতপত করে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা।

Facebook Comments
শেয়ার করুন