বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে: গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!: কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত : শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত: মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন: পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি:
A+ A A-

আদালতে ৭ খুনের আসামি কাঁদলেন হাউমাউ করে

নিউজ ডেস্কঃ Khun Narayongonjনারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার আসামি র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা গতকাল সোমবার আদালতে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। তিনি আদালতে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, সাত খুনের তিন মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রীর গর্ভে তার সন্তানও এসেছিল। তিনি জেলে থাকায় স্ত্রী গর্ভের সন্তান নষ্ট করে পিত্রালয়ে চলে গেছে। কোনো অন্যায় না করেও এত দিন ধরে জেলে পড়ে আছেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত লে. কর্নেল ও র‌্যাব ১১-এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার (সিও) তারেক মোহাম্মদ সাঈদের পে যুক্তিতর্ক চলার সময় পূর্ণেন্দু বালা এ কথা বলেন।

সাত খুনের দুটি মামলায় গতকাল র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ আরও ৮ আসামির আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে ৭ খুনের দুটি মামলায় ৩১ আসামির আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলো। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এই যুক্তিতর্ক হয়।

গতকাল সকালে শুরুতেই র‌্যাব ১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুলতান উজ জামান যুক্তিতর্ক উপস্থান শুরু করেন। রোববার দুপুরে তারেক সাঈদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় গতকাল মামলার কার্যক্রমের শুরুতেই তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এরপর তারেক সাঈদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন। এদিন আরও ৭ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে তদন্তকারী সংস্থা নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে একটি মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি তার মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র দেওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। প্রথমে বিচারিক হাকিম আদালত ও পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত তা খারিজ করে দেন। পরে সেলিনা ইসলাম বিউটি অধিকতর তদন্ত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে আদেশে বলেন, পুলিশ চাইলে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে পারে। তবে মামলাটিতে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার ধারা যুক্ত করে বিচার করার জন্য জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৭ খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ পলাতক ১২ আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য শুরু হয়েছে। পলাতক ১২ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের খরচে ৫ আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছে। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাী হলো ১২৭ জন করে। এখন পর্যন্ত সাত খুনের দুটি মামলায় অভিন্ন ১২৭ সাীর মধ্যে ১০৭ জনের স্যা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১০৮ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল সাক্ষ্যপ্রদান করছেন।