বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে: গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!: কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত : শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত: মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন: পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি:
A+ A A-

01 মার্চ 2017

গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে

গাজীপুর  প্রতিনিধি : জেলার শ্রীপুর উপজেলার গাড়ারন রেলক্রসিং থেকে বরমী বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে গত তিন বছর ধরে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আর স্থায়ী হয়ে পড়েছে এ সড়কে জনদুর্ভোগ। এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হওয়ায় ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।

গত আট মাস আগে সড়কটির দুই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হলেও বাকি অংশে পিচ ঢালাই না দেওয়ায় ইটের খোয়া ধুলাবালিতে পরিণত হয়েছে।

পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন বাদল বলেন, বাসা থেকে পরিচ্ছন্ন কাপড় পরে বের হই। কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই লাল রঙে রঙিন হয়ে যেতে হয়। গৃহিণীরা এখন বাড়িতে থাকতে চান না।

গাড়ারন মাদ্রাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শিম ও লাউসহ শাক সবজির ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু ধুলার কারণে তা নষ্ট হতে চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র আশিক বলেন, ধুলাবালিতে এলাকার মানুষের সর্দি-কাশি লেগেই রয়েছে। ঘরের বিছানা ও আসবাবপত্র দিনে কয়েকবার পরিষ্কার করতে হয়। এ অবস্থা থেকে আমাদের রেহাই কবে?

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন বলেন, সড়কে ইটের খোয়া দেওয়ার পর কাজের ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আগের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন নকশা ও পরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। টেন্ডার হলে কাজ শুরু হবে।

 

Read more

গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!

গাজীপুর প্রতিনিধি : ’জাগ্রত চৌরঙ্গী’ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ভাস্কর্য। ১৯৭৩ সালে ভাস্কর আব্দুর রাজ্জাক গাজীপুরের বর্তমান জয়দেবপুর চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঠিক মাঝ বরাবর নির্মাণ করেন। ভাস্কর্যটিতে ডান হাতে গ্রেনেড, বাঁ হাতে রাইফেল। লুঙ্গি পরা, খালি গা, খালি পা আর পেশিবহুল এ ভাস্কর্যটি মহান স্বাধীনতার স্মারক ভাস্কর্য এবং সেই সাথে গাজীপুর জেলার পরিচয় বহন করে। 

হোয়াইট সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে নির্মিত ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ তে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ জন ও ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন বীর শহীদের নাম উৎকীর্ন করা আছে। 

কিন্তু এই ভাস্কর্যটির পাদদেশ এখন নিলাজ মুত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট হয়ে দাড়িয়েছে। ভাস্কর্যটির সীমানা প্রাচীরে দিনদুপুরেই মূত্রত্যাগ করে মানুষজন। যার প্রবাহমান মহাসড়ক পর্যন্ত এসে পড়ে। দূর্গন্ধ এখন ওই স্থান দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের নিত্য দিনের সঙ্গী। সেই সাথে অনেকে রীতিমত প্রশাসনের উপর ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ছুড়ে বসেন। তাদের অভিযোগের তীর এখন প্রশাসনের দিকেই। 

চৌরাস্তা উপর দিয়ে আশপাশের কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক চলাচল করে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য তার উপরে আবার হাজার হাজার মানুষের চলাচল সেই স্থানে এরকম পরিস্থিতি’র কারণে বিপাকে সাধারণ মানুষ।

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা রিপা এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিনই এখান দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। নোংরা পরিবেশেরও একটা সীমা থাকা দরকার। দূর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচলও এখন কষ্টকর। 

সেই সাথে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে তার পবিত্রতা এবং অচিরেই যাতে ভাস্কর্যের পাদদেশে মূত্রত্যাগ যাতে কেউ না করতে পারে সেদিকে প্রশাসনের সুুদৃষ্টি কামনা করেন। 

এছাড়া দেশের প্রথম ভাস্কর্য দেখতে অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে আসে। তারা অনেকটা বিপাকেই পড়ে। কাছেতো দূরের কথা অনেক দূর থেকেই পচাঁ গন্ধে আর কাছে যাওয়ার উপক্রম নেই। এছাড়া ভাস্কর্যের পাদদেশের বেধিতে রাজনৈতিক ব্যানার ফেস্টুন ইত্যাদি লাগিয়ে ভাস্কর্যের চিরায়িত লাবণ্য আজ ধুলিস্যাত এ ব্যস্ত রয়েছে অনেকে।

এদিকে স্বাধীনতার স্মারক এ ভাস্কর্যটির পাশেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স। অথচ তাদের নাকের ডগার সামনেই এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে পুলিশ তথা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। 

জেলার সচেতন মহল প্রশাসনের এরকম খাম খেয়ালি পনায় রীতিমত অভিযোগের তীর প্রশাসনের দিকেই ছুড়ছে। সেই সাথে অচিরেই যাতে মহান স্বাধীনতার স্মারক ভাস্কর্য ও গাজীপুর জেলার পরিচয় বহন করে এই ভাস্কর্যটি যাতে মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেটে পরিনত না হয় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। 

 

Read more