বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবেঃ অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু: শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন সময়ের দাবী: সিলেটে ত্রান না পাওয়ার অভিযোগ করায় অভিযোগকারিকে আওয়ামীলীগ নেতার মারধর: ইউএনও’র বিরুদ্ধে মামলা প্রভাবশালীদের ইন্ধনে!: আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস আজ: গাজীপুর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে:
A+ A A-

মেধা শূন্য দেশ ও অপসাংবাদিকতা

বিশ্ব মানচিত্রে ছোট্ট একটি দেশ। নাম বাংলাদেশ। সুজলা, সফলা, শস্য, শ্যামলা চির সবুজের দেশ। সবুজের মাঝখানে লাল বৃত্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের বুকের তাজা রক্ত খচিত পতাকা সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। আসলেই কি সোনার বাংলাদেশ? আসলেই কি আমাদের দেশের ছেলেরা সোনার ছেলে? বলতে কোন দ্বিধা নেই, এ দেশে যে কয়টি সোনার ছেলে তৈরী হয় বর্তমানে তারা পাড়ি দেয় বিদেশে। দিনে দিনে দেশ হচ্ছে মেধা শূন্য। হায়রে মেধা শূন্য অভাগা বাঙালী। আজ আমাদের বিচার, বুদ্ধি, বিবেক, মন, মানসিকতা, মননশীলতা, হৃদয় কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে। হৃদয়ের মাঝখানে যদি লাল সবুজের পতাকার মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বাংলার প্রতিটি মানুষ দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করত তবে এ জাতি বুক উঁচু করে বিশ্ব মানচিত্রে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে স্থান দখল করে থাকত। কিন্তু আমাদের মনের মধ্যে বাসা বেঁধেছে আত্ম-অহমিকা, দাম্ভিকতা, চাতুরতা, হটকারিতা। মন আছে-সঠিক মানসিকতার অভাব, মুখ আছে-সৎ সাহস নেই সত্য কথা বলার। চোখ আছে-দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যায়। অর্থ আছে-আর্থিক সহযোগিতা করার মন মানসিকতা নেই। বুদ্ধি আছে, বিবেক আছে-কিন্তু বুদ্ধি এবং বিবেক দিয়ে ভাল কোন কাজে ব্যবহার করতে চায় না।
আটষট্টি হাজার গ্রাম নিয়ে বাংলাদেশ। এ দেশে দলের নেষ নেই, মত ও মতভেদের অভাব নেই। বর্তমানে আমাদের দেশটি দল সর্বস্ব দেশ। এমনও দল আছে এক নেতার এক দেশ এরই নাম বাংলাদেশ। আটষট্টি হাজার গ্রামে দল আছে সত্তর হাজার। বলতে পারবেন এ দেশে কি নেই? সব নেই কোন দলে। সবই আছে সব দলে। কোন্দলের চাপে দিন দিন দলের পাল্লা বিস্তৃতি লাভ করে গ্রাম সর্বস্ব দলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে দেশের গণ মাধ্যম অর্থাৎ প্রচার মাধ্যম এমন এক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে প্রতিটি ঘরে এখন প্রচার মাধ্যম কর্মী রয়েছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিক তৈরী হয়ে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। বলা যায় বাংলাদেশে প্রায় দশ হাজার পত্রিকা আছে। এদের মধ্যেম ছাপা পত্রিকাই আছে প্রায় চার’শর অধিক। আর ইন্টারনেট সুবিধার কারণে অন-লাইন পত্রিকার সংখ্যা অগণিত। স্বাধীনতা পরবর্তী কালে এদেশে হাতে গোনা দশ বারটি জাতীয় পত্রিকা ছিল। আর এসব নাম সর্বস্ব পত্রিকাগুলো কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সঠিক নিয়ম কানুন না থাকার কারণে সাংবাদিকগণ নিজেদের ফায়দা হাসিল করার জন্য চলে অপসাংবাদিকতা। একই সংবাদের ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকায় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সংবাদ উপস্থাপন করে সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। সংবাদগুলো পড়লে মনে হয় দু’টি পক্ষ বাদী এবং বিবাদী হয়ে মামলা লড়ছে। এটাই কি সংবদ এবং সাংবাদিকদের ধর্ম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে প্রচার মাধ্যমগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস দিন দিন হারিয়ে যাবে। প্রত্যেকটি পত্রিকারই এক একটি শ্লোগান আছে। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই আমাদের লক্ষ্য, সময়ের সাহসী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই প্রতিটি প্রত্রিকার সম্পাদক এবং প্রচার  মাধ্যমগুলোর নির্বাহী সম্পাদক কর্তৃক প্রতিটি সাংবাদিকদের নির্দেশনা দেয়া উচিৎ মিথ্যা, বানোয়াট, তথ্য বিহীন সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকা এবং যদি কোন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত বা পরিবেশিত হয় তবে যে সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রদান করবে তাকে আর্থিক দন্ডসহ সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রাখতে হবে। কোন সংবাদের প্রেক্ষিতে যদি প্রতিবাদ ছাপাতে হয় তবে যে সাংবাদিক সংবাদ প্রদান করবে তাকে যাবতীয় দায়ভার ও অর্থ দন্ডসহ বরখাস্তের বিধান রাখতে হবে। বর্তমানে বেশীর ভাগ সাংবাদিক অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। তাই প্রচার মাধ্যমগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং তথ্য নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।