বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ::. গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক ::. গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী ::. গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে ::. গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !! ::. কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ! ::. উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত ::. শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত ::. মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন ::. পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি ::. বুড়িগঙ্গার সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের দাবি ::. রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে ::. সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার ::. শ্রীপুরে খোলা জায়গায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে : দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ::. কালিয়াকৈরে দুটি ঝুটের গুডাউনে অগ্নিকান্ড ::.
A+ A A-

কালিয়াকৈরে প্রতিবন্ধী মেয়েকে গনধর্ষন; নির্দোষ ছেলের সাথে জোরপুর্বক বিয়ে

মো: হুমায়ুন কবির, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: কালিয়াকৈর উপজেলার মুথাজুরি এলাকায় প্রতিবন্ধী এক মেয়েকে জোরপুর্বক গনধর্ষনের পর একই গ্রামের নিরীহ এবং নির্দোষ আফছার আলীর সাথে বিয়ে দিয়েছে ধর্ষিতার পিতাসহ গ্রাম্য কয়েক মাতাব্বর। সোমবার সরেজমিনে গেলে ধর্ষিতা সূত্রে জানাযায়, উপজেলার মুথাজুরি গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ নইম(২০), একই গ্রামের মোঃ শহিদের ছেলে মেহেদী (২০) ও মোঃ রুমেজ উদ্দিনের ছেলে রনি(১৯) প্রতিবন্ধী ওই মেয়েকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাশ্বৃবর্তী বনের ভিতর ডেকে নিয়ে ধর্ষন করে। পরে ওই মেয়ে বিষয়টি তার মাকে জানালে মা তাকে মারধর করে এবং অন্যকাউকে না বলার জন্য তাকে বাধা প্রদান করে। এতে ওই ছেলেরা সুযোগ পেয়ে পর্যায়ক্রমে ওই মেয়েকে জোরপুর্বক ধর্ষন করতে থাকে। ধর্ষনের ফলে মেয়েটি একসময় গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি বাড়ির সবাই জানাজানি হলে শ্রীপুর উপজেলার সিংগার দিঘী এলাকার আলাল উদ্দিন নামের একব্যাক্তি ধর্ষিতার খালু শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় ওই মেয়ের আত্নীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে মাওনা আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় ওই মেয়ে ৮সপ্তাহের অন্তসত্বা বলে ধরা পড়ে। পরে এ বিষয়ে এলাকায় বিচার বসে। বিচারে প্রকৃত ধর্ষকদের অনুপস্থিত রেখে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে দিনমজুর আফসার আলীকে বিচারে ডেকে আনে এবং মারপিট করে। পরে মাতাব্বরগন পরিকল্পিত ভাবে হাসপাতালের ডাক্তারের ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে ধর্ষনের দায়ে অন্তসত্বা হওয়ার দায়ভার তার উপরে অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়।

দিনমজুর ওই ছেলের কোন কথা না শুনে তাকে দুষি সাব্যস্ত করে। ধর্ষনের সাথে আফছার কোন ভাবেই জড়িত নয় বলে ধর্ষিতা মাতাব্বরদের জানালেও স্থানীয় মাতাব্বরগন ওই মেয়ের কোন কথা না শুনে ধর্ষিতা মেয়ের সাথে বিয়ে পড়িয়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জানায় বিষয়টি তিনি জানার পরে স্থানীয়ভাবে মিমাংশার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ন হলেও তিনি বিচার কার্য সমাপ্ত করার পুর্বেই জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে আসেন। এসুযোগে ধর্ষকের পিতা ইদ্রিস আলী ও অপর ধর্ষকের পিতা শহিদ মিয়াসহ স্থানীয় মাতাব্বরগন একই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে আফসার আলী(১৭)কে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ধর্ষনের দায় তার উপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দিয়ে ধর্ষিতার সাথে বিয়ে দিয়ে নিজ পুত্রসহ অন্যান্য ধর্ষকদের বাচিয়ে দিয়ে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে ধামাচাপা দেয়। এব্যাপারে ইদ্রিস আলী জানায় আফসার আলী ওই প্রতিবন্ধি মেয়েকে ধর্ষন করেছে তার স্বীকারোক্তি মতে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধান করা হয়েছে।
অপরদিকে শহিদ মাতাব্বরকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ছেলেকে দিয়ে মোবাইল রিসিব করান। কিন্তু তিনি কোন কথা বলেননি। স্থানীয় ভাবে ধর্ষিতা ন্যায় বিচার নাপেয়ে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অপর দিকে এব্যাপারে ধর্ষিতা ধর্ষকদের নাম উল্লেখ্য করে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে দায়ীত্বরত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে ধর্ষকদের নাম বাদদিয়ে অভিযোগপত্র গ্রহন করে বলে ধর্ষিতা ও তার স্বামী আফছার আলী উল্লেখ্য করেন। এবিষয়ে কালিযাকৈর থানার উিটি অফিসার পুলিশের সাবইন্সিপেক্টর মুনজিয়া আক্তার জানায়, তার বিরোদ্ধে করা অভিযোগটি মিথ্যা। অভিযোগকারীর সাথে থাকা লোকজনই ধর্ষকদের নাম উল্লেখ্য নাকরে অভিযোগ জমা দিয়েছে। এএসআই আনিছকে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়িয়া ফাড়ির এএসআই আনিছ জানায় ঘটনা তদন্ত করে কালিয়াকৈর থানার ওসি স্যার ও সেকেন্ড অফিসারকে জানানো হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানায় মেয়েটি থানায় এসেছিল বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিচারে উপস্থিত মাতাব্বর খোরশেদ আলমের ছেলে হারুন অর রশিদ(৫০)জানায় প্রকৃত ধর্ষকদের বিচারে উপস্থিত না করে ধর্ষনের দায় থেকে দোষীদের বাচানোর জন্যই মাতাব্বরগন ধর্ষিতার কোন কথা না শোনে বিচারের রায় ঘোষনা করে। স্থানীয় আমজাদ হোসেনের ছেলে এ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বি জানায় মাতাব্বরা প্রকৃত দোষীদেরকে বাচানোর জন্যই ধর্ষিতার কোন কথা শোনেনি একটি নিরিহ ছেলেকে ধরে এনে ওই মেয়েকে দিয়ে বিয়ে দিয়েছে। আমরা প্রকৃত ধর্ষনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করি।