বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ::. গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক ::. গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী ::. গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে ::. গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !! ::. কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ! ::. উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত ::. শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত ::. মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন ::. পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি ::. বুড়িগঙ্গার সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের দাবি ::. রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে ::. সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার ::. শ্রীপুরে খোলা জায়গায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে : দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ::. কালিয়াকৈরে দুটি ঝুটের গুডাউনে অগ্নিকান্ড ::.
A+ A A-

সেভেন রিং কারখানায় দূর্নিতীর মডেল আশরাফ আলী ও নিয়াজের অপসারণ দাবি ফ্যাক্টরীজুড়ে

1535কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় অবস্থিত সেভেন রিং সিমেন্ট কারখানা কোন পথে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন স্থানীয় শ্রমিক-কর্মচারীদের। কর্মকর্তাদের একের পর এক অপকর্ম স্বনামধন্য ওই কারখানা তার সুনাম হারাতে বসেছে। কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক ও জেনারেল ফিজিশিয়ান মো. আবুল কালাম আজাদ, মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন ও ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়াজ আহমেদের কারণে সেভেন রিং কারখানা আজ ধ্বংসের পথে। আর ওই তিন কর্মকর্তার দেখানো পথেই এভার হাটছেন আরটিডির ডিজিএম আশরাফ আলী। আগের কর্তা ব্যক্তির দূর্ণীতি আর অপর্কমের তদন্ত না করতেই বাড়ছে আরো দূর্ণীতি ও অপর্কম। এ যেন মরার উপর খারার গা। সেভেন রিং সিমেন্ট কারখানার একাধীক কর্মকর্তার অপকর্ম আর দুর্ণীতির কারনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের ওই জায়গাটি। ফলে যে কোন সময় মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে শ্রমিক আন্দোলন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সেভেন রিং সিমেন্ট কারখানার আরটিডির ডিজিএম আশরাফ আলীর ডান হাত বলে পরিচিত সিনিয়র এক্সিউকিটিব মনিরকে ঢাকা গুলশানে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তার স্থানে স্থলাবিসিক্ত হয় আশরাফ আলীর ভাতিজা হিসেবে পরিচিত শাহাব উদ্দিন। আর এতে আশরাফ আলীর বাড়তি অর্থ আয়ের বিশেষ পথ তৈরি হয়। আরটিডি বিভাগে কর্মরত ১৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১২ জন কর্মকর্তাই মনিরকে বদলি না করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। আর আবেদনটি কারখানার সিটিও নান্টু বাবুর বরাবর লিখে আরটিডির ডিজিএম আশরাফ আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়। নিয়মানুয়ায়ী মনিরের বদলির বিষয়টি বিবেচনা করে ডিজিএম আরটিডি ওই আবেদনে সুপারিশ করে নান্টু বাবুর কাছে জমা দেওয়ার কথা। তিনি তা না করে একজন বার্তাবাহকের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে মহা-ব্যবস্থাপক (এইচআরডি) কাজী মাহমুদের বরাবর পাঠিয়ে দেন। আর এতে ক্ষিপ্ত হন কাজী মাহমুদ। তিনি কোম্পানীর নির্বাহী প্রধানকে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে আরটিডি বিভাগের আবেদনকারী ওই ১২ জনকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া এক কর্মকর্তা জানান, আবেদনপত্র করার আগে আরটিডির ডিজিএম আশরাফ আলীর কাছে অনুমতি নেয়া হয়েছিল এবং সেই কথা রের্কডও ওই কর্মকর্তার কাছে আছে। অনুমতি নিয়ে আবেদন করার পরও আশরাফ আলী কেন এমন আচরণ করলেন এ প্রশ্ন আরটিডি বিভাগের আবেদনকারী ওই ১২ কর্মকতার। তিনি তাহলে কি কারণে মোবাইল ফোনে এমন নির্দেশনা দিলেন?

জানা যায়, প্রতি মাসে বাজার করে দেওয়া, বেতন হলে নির্দিষ্ট একটি অংশ আশরাফ আলীকে দেওয়ার ব্যাপারে মনিরকে সবসময়ই চাপে রাখতেন। আর মনির যখন তার কথার অবাধ্য হয় তখনই আশরাফ আলী মনিরকে অন্যত্র বদলির বিভিন্ন ফাঁদ পাতেন। শেভিং রেজার, ডায়াবেটিকস পরিমাপের যন্ত্র, প্রেসার পরিমাপের যন্ত্র থেকে শুরু গরুর দুধ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতো আশরাফ আলীকে। প্রতি মাসেই মনিরসহ বিভিন্ন জন বিভিন্ন হাড়ে টাকা দিত। আর ওইসব টাকা দিয়ে তিনি আশুলিয়ায় জায়গা কিনেছেন। সফল হয় আশরাফ আলী। এভার মনিরকে প্রমোশনের নামে বদলি করা হয় প্রধান কার্যালয়ে। আর মনিরের স্থলাবিসিক্ত করেন তারই নিকট আত্মীয় জাহাঙ্গীর আর সাহব উদ্দিন। জাহাঙ্গীরন প্রতিদিন ২ প্যাকেট ব্যানসন সিগারেট আর সাহব উদ্দিন প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা দিত আশরাফ আলীকে। আর এছাড়াও তারা প্রতি ১০ দিন অন্তর অন্তর বাজার করে দেতা।

অন্যদিকে, প্রতি মাসে প্রত্যেক বাল্ক কেরিয়ারের ড্রাইভারের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা করে নেয়া, ভালো ভালো ট্রিপ দিয়ে ট্রিপ অনুযায়ী বাল্কের ড্রাইভারদের কাছ থেকে কারখানার অফিসার জুয়েলের মাধ্যমে ৩শত টাকা করে নেয়া, ড্রাইভারদের বেতন হলে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে নেয়া, অভিজ্ঞ ও পুরাতন ড্রাইভার থাকা সত্বেও ছকে বাধা কিছু ড্রাইভারকে দূরের ট্রিপ দেয়া, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফিরতি ট্রিপ নিয়ে আসলেও এর একটি পয়সা আরটিডি একাউন্টসে জমা না দেয়া, কারখানার বিভিন্ন জনের কাছে ধারের কথা বলে টাকা নিয়ে ফেরৎ না দেয়া, ড্রাইভাররা টাকা না দিলে তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা, গাড়ীর হেলপারদেরক ড্রাইভার বানানোর কথা বলে অগ্রিম টাকা নেয়া, নতুন ড্রাইভার আসলে তাদের কাছে টাকা নেয়া হচ্ছে আরটিডির ডিজিএম আশরাফ আলী অবৈধ আয়ের উৎস।

আবার, ফ্যাক্টরীর জহির সাহেব/রন্জন বাবু ইতিমধ্যে কয়েকটি সাংবাদিকদদের টাকা দিয়াসে যাতে নিউজ না হয়। নারায়ন বাবুও আছে যারা কয়েক কোটি টাকার মালিক।ঢাকায় প্লট,ফ্ল্যাট ও খালি জায়য়গা কিনেছে। আর ব্যাংকেও আছে টাকা। তারা কোন কাজই করেনা। ফ্যাক্টরীর শ্রমিক দাবি, আশরাফ ও নিয়াজের বদলি আর দেলেয়ার/ভুয়া আজাদ/জিএমএইচআর এর বিচার। তা না হলে তারা আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠবে।