বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে: গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!: কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত : শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত: মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন: পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি:
A+ A A-

বিএনপি–জামায়াতের অন্তত ১৫৩ জনসহ আটক ৭২৮

দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী ও পুলিশ। এর আওতায় গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম, বগুড়া, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্তত আট জেলায় ৭২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫৩ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একটি বড় অংশ বিভিন্ন মামলার আসামি।
সারা দেশে এ অভিযানের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যাদের সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের আটক করা হচ্ছে।
পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকার বাইরে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।
চট্টগ্রাম: শুক্রবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলার ১৬টি থানা এলাকা থেকে ৪৮১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৮ জন জামায়াত-শিবিরের এবং একজন বিএনপির কর্মী-সমর্থক। অন্যদের মধ্যে ৩৬৪ জন নাশকতা, সহিংসতা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।
জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ২২ জন। সীতাকুণ্ড থেকে আটক ৫৩ জনের মধ্যে চারজন জামায়াত-শিবিরের ও একজন বিএনপির কর্মী। মিরসরাই থেকে আটক ৪৮ জনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থক অন্তত দুজন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশেষ অভিযান পরিচালিত হওয়ার কারণে ৪৮১ আসামি ধরা পড়েছে। আমাদের সাধারণ অভিযানে গড়ে প্রতিদিন ১৫০ জন আসামি ধরা পড়ত।’ তিনি জানান, আটক হওয়া ৪৮১ জনকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া: শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে গতকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে জামায়াত-বিএনপির ২০ নেতা-কর্মীসহ ৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) গাজিউর রহমান বলেন, ৭৫ জনের মধ্যে ১৫ জন জামায়াত-শিবিরের ও ৫ জন বিএনপির কর্মী। এর মধ্যে রয়েছেন শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আফছার উদ্দিন ও ধুনট উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির হারুনুর রশীদ। অভিযানকালে ১টি পিস্তল, ৯টি গুলি, ১২টি ককটেল, ৩টি চাপাতি, ২টি চায়নিজ কুড়াল, ২টি ধারালো চাকুসহ বেশ কিছু মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গতকাল আটক সবাইকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা: নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৫২ জন নেতা-কর্মীসহ ৭১ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছেন কলারোয়া পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল মতিন খান, সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত-সমর্থক কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই কামাল হোসেন জানান, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী জেলার বিভিন্ন থানায় এসব অভিযান চালায়। আটককৃত বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদরের ১৪ জন, কালীগঞ্জের ১০ জন, কলারোয়ার ১০ জন, পাটকেলঘাটার ৬ জন, আশাশুনির ৪ জন, তালার ৪ জন ও শ্যামনগরের ৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া সদর থানা এলাকা থেকে সেলিম বাবু নামের এক জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া বাকি ১৮ জন বিভিন্ন মামলার আসামি। গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলার পাঁচ উপজেলায় যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৩৭ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়।
জেলার পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ জানান, নাশকতার আশঙ্কায় এবং বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামিদের ধরতে এসব অভিযান চালানো হয়। আটক হওয়া নেতা-কর্মীদের সবাই আগে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার আসামি বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুর: শুক্রবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে আরও ৩৩ জন আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন জামায়াত-শিবিরের কর্মী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আটক করা হলো ৭৩ জনকে।
যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে গতকাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় জানানো হয়, দুই দিনে আটক হওয়া ৭৩ জনের পরোয়ানাভুক্তসহ বিভিন্ন মামলার আসামি ৬০ জন। এর মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার ২৫ জন, ভাঙ্গার ১৭ জন, সালথার ৭ জন, মধুখালীর ৬ জন, বোয়ালমারীর ৯ জন, নগরকান্দার ৩ জন, আলফাডাঙ্গার ২ জন, চরভদ্রাসনের ২ জন ও সদরপুরের ২ জন। আটক সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানকালে দুটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি, ২ কেজি ৯০ গ্রাম গাঁজা ও ১ হাজার ৪৬৮টি ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
নোয়াখালী: জেলার সেনবাগ ও চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাটখিল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. সাইফুল্লা ও সেনবাগ উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাটখিল ও সেনবাগ থানায় মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আটক দেখিয়ে গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ: নাশকতার মামলায় জেলার উল্লাপাড়া থানা-পুলিশ গতকাল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিবিরের দুই ও বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করেছে। তাঁরা হলেন শিবির কর্মী উপজেলার ঝিকিড়া গ্রামের এরশাদ আলী ও রাঘববাড়িয়া গ্রামের আবু তালেব এবং বিএনপির কর্মী নলসোন্দা গ্রামের ফরহাদ হোসেন এবং চরকালীগঞ্জ গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন।
উল্লাপাড়া থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদ বলেন, আটক হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলা বিএনপির (পশ্চিম) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলামকে গতকাল বিকেলে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, জহিরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারামারির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে পরিবার দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।