বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে: গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!: কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত : শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত: মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন: পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি:
A+ A A-

সাড়ে তিন মাসে ১৫০০ খুন

024434Pic 33গত সাড়ে তিন মাসে সারা দেশে খুন হয়েছেন ১৫০০ জন। খোদ পুলিশের পরিসংখ্যানেই খুনের এ চিত্র পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর অপহরণ, হত্যাসহ বেশির ভাগ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনেই দেখা যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। এরই মধ্যে নতুন ধরনের বিভিন্ন অপরাধ জনমনে শঙ্কা তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সময়ের অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, অপহরণ, গুম, শিশু নির্যাতন ও হত্যা এবং পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরেই শত শত সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংসতায় এরই মধ্যে খুন হয়েছে ৩২ জন। গত সাড়ে তিন মাসে দেড় হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দেশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ সংস্কৃতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মাদকের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে অপরাধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
{facebookpopup}
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হচ্ছে, দেশে পরিসংখ্যানের হিসাবে অপরাধ কমলেও নৃশংস ঘটনা বাড়ছে। গত এক বছরে হত্যা, গণপিটুনি, শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ‘ক্রসফায়ার’, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার বেড়েছে। এ সময়ে বীভৎস কায়দায় শিশুহত্যা ও নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশু রাজন, রাকিব, সাঈদ, সুমন হত্যাসহ বেশ কিছু হত্যার দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনের প্রতি জনগণের আস্থা কিছুটা হলেও বেড়েছে। গত এক বছরে বিদেশি, ব্লগার ও লেখক হত্যা এবং সেই সব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়েছে বারবার।

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৮ সালে সারা দেশে খুনের ঘটনা ঘটে ৪ হাজার ৯৯টি। অন্যদিকে ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৩৯৩ জন খুন হন।

প্রতিবছর গড়ে ৪ হাজারেরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটার নেপথ্যে পুলিশী তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সম্পত্তি বিরোধ, দখলদারিত্বের কারণে দেশে সব সময় খুনের ঘটনা ঘটছে। চরমপন্থিরাও খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে খুনোখুনির ঘটনাও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব খুনিকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে পুলিশের সঠিক তদন্ত ও টহল জোরদার করা দরকার।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এম সাখাওয়াত বলেন, ইদানিং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে আটকাভিযান পরিচালনা করতে হবে।

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ৪ হাজার ২১৯টি, ২০১০ সালে ৩ হাজার ৯৮৮টি, ২০১১ সালে ৪ হাজার ১১২টি, ২০১২ সালে ৪ হাজার ১১৪টি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৩৯৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ৪০৩, ফেব্রুয়ারিতে ৩২৮, মার্চে ৩৬৯ ও এপ্রিল মাসে ৪০১ জন খুন হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত খুন হয়েছেন ১৫০১ জন। বর্তমান সরকারের ৫ বছরে খুন হয়েছেন ২২ হাজার ৬৫৫ জন।

গত চার মাসে খুনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১২ জন খুন হয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কিছু স্থানে খুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানেই ঘটনা ঘটছে, যারাই ঘটাচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রতিমন্ত্রী পাবনা ও মাদারীপুরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, পাবনার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ৭/৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা এ সব ঘটনা ঘটিয়ে পার পায়নি।

এ বিষয়ে পুলিশের মহা-পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, দুই/একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যসব সময়ের থেকেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রয়েছে। পুলিশ সব সময় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

খুন-খারাবি নিয়ন্ত্রণে বিচার বিভাগের ভূমিকা কি ও পুলিশি তদন্ত কতটা সন্তোষজনক এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দেশে খুন-খারাবির ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের সামনে ভাসে। তাদের কোনো কাজ নেই।