বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে অসহায় গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন সজিব ওয়াজেদ জয়: বিএনপির সদস্য হতে নারী ও তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে সমালোচনায় ট্রাম্প: ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করুন : চীন: মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ : গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক: গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী: গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে: গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !!: কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ !: উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত : শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত: মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন: পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি:
A+ A A-

পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে শিশুকে জবাই করে হত্যা

sreepur mapশ্রীপুরে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢুকে শিশুকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া (মোড়ল মার্কেট) এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজনীন আক্তার (৭), স্থানীয় চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবার নাম আক্কাছ আলী।
শ্রীপুর থানার এসআই আমিনুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নানী মিনুজা বেগমের সঙ্গে বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল নাজনীন। রাত ২টার দিকে পুলিশের লোক পরিচয়ে দিয়ে কয়েকজন লোক দরজা খুলে দিতে ধাক্কা দেয়। এক পর্যায়ে নানী দরজা খুলে দিলে তিন জন লোক ঘরে ঢুকে পড়ে এবং নাজনীনকে ঘুম থেকে তুলে টেনে হেঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। নানী তাদেরকে টেনে ধরলে তাকে ঘরে রেখে দুবৃত্তরা বাইরে থেকে দরজায় ছিটকিনি আটকে দেয়। এসময় নানী ঘরে থেকে ডাক চিৎকার করতে থাকেন। পরে শুক্রবার ভোর চারটার দিকে তার ডাকচিৎকার শুনে প্রতিবেশি এক মহিলা ঘরের দরজা খুলে দেয়। পরে ঘরের সামনে বারান্দায় নাজনীনের জবাই করা লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পর এলাকাবাসি পুলিশে খবর দিলে পুলিশ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
প্রায় সাড়ে তিনবছর আগে নিহতের বাবা আক্কাছ আলী দ্বিতীয় বিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।পরবর্তীতে নাজনীনের মা আসমা বেগম অন্যকে বিয়ে করে স্থানীয় সলিং মোড় এলাকায় দ্বিতীয় স্বামীর কাছে চলে যান। চকপাড়া এলাকায় নাজনীনের নানা হাসমত আলী হাসু, নানী মিনুজা বেগম, মামা রিপন
মিয়া ও নাজনীনকে নিয়ে বসবাস করতেন। ঘটনার রাতে নানা হাসু টাঙ্গাইলে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। রিপন ছিলেন ঢাকায়। বাড়িতে শুধু নানী ও নাতনী ছিলেন।
নিহতের মামা রিপন মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় আজগর আলীর ছেলে আব্দুল করিম ও আবদুল কাদির মধ্যস্থতা করে রিপনের বাবা হাসমত আলী ওরফে হাসুর চকপাড়ার প্রায় ১১শতাংশ জমি শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকার ইয়াকুব আলী মেম্বারের ছেলে এমদাদুল হকের কাছে বিক্রি করে দেন। এসময় তারা তার কাছ থেকে ১৭লাখ টাকা নিয়ে অন্যত্র জমি কেনার আশ্বাস দেন এবং চকপাড়ায় তাদের জমিতে তিন কক্ষের একটি বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেন। টাকার বদলে ওই বাড়িসহ কিছু জমিটি হাসুর কাছে বিক্রিরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। পরে ওই বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন তারা। কয়েকবছর পর ওই বাড়িসহ জমি রেজিস্ট্রির করার জন্য চাপ দিলে করিম ও তার ভাই কাদির নানা তালবাহানা
শুরু করেন এবং ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেন। এনিয়ে করিম ও কাদিরের সাথে রিপনদের বিরোধ চলছিল। দেড় বছর আগে ষড়যন্ত্র করে রিপনকে একটি মোটর সাইকেল চুরির মিথ্যা মামলায় আসামি করে তাকে এলাকা ছাড়া করা হয়। নাজনীন হত্যার ঘটনায় তাদের হাত রয়েছে।তাকে হত্যা করে আমাদের ওই বাড়ি ছাড়ার চক্রান্ত করছে তারা।