বর্ষ ১ - সংখ্যা ৪৯

সংবাদ শিরোনাম :
গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ::. গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ::. মার্চেই প্রাথমিকে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ::. গাজীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক ::. গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগ প্যানেল জয়ী ::. গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে গর্ত ও ধুলায় জনদুর্ভোগ চরমে ::. গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ এখন মূত্রত্যাগীদের পাবলিক টয়লেট !! ::. কালিয়াকৈরে কবরস্থানের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ! ::. উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার স্মরণ সভা পালিত ::. শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত ::. মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন ::. পুলিশি হামলা : দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ : বিএনপি ::. বুড়িগঙ্গার সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের দাবি ::. রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে ::. সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার ::.
A+ A A-

শ্রীপুরে খোলা জায়গায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে : দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে খোলা জায়গায় ফেলায় বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে খোলা জায়গায় ফেলায় শত বিঘা কৃষি জমিতে চাষাবাদ প্রায় বন্ধের পথে। মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে এলাকার পরিবেশ। এমন অবস্থা থেকে রেহাই পেতে চায় এলকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের জেড আই জালালের রানা পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে অবাধে ছেড়ে দিচ্ছে পাশের কৃষি জমিতে। ফার্মের পশ্চিম দিকে একটি সলিং রাস্তা তার পাশেই তৈরি করে রেখেছে বিশাল বড় একটি বর্জ্যের খোলা গর্ত। এখানে পড়ছে পোল্ট্রির বর্জ্য, মরা মুরগি, পচা ডিম। এগুলো গর্তের পানিতে পচে আশপাশের ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক গ্রামবাসী চলাচল করে এবং সিংগারদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরলেও গন্ধে পেট ফুলে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। পচা বর্জ্যে পানির সাথে মিশে প্রায় অর্ধশত বিঘা কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। দূষিত এ পানি কৃষকের পায়ে লাগলে ঘা ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। কৃষি জমিতে ফসল রোপন করলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এই ভয়ে কৃষি জমিতে ফসল আবাদ বন্ধ করে দিয়েছে কৃষকরা।

একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য পোল্ট্রি ফার্মের। ফার্মগুলো হলো, কেওয়া পূর্ব খন্ডের মাওনা-শ্রীপুর পাকা সড়কের পাশে শাহজাহান মিয়ার সাদিক পোল্ট্রি ফার্ম, গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের হাসু মিয়ার পোল্ট্রি ফার্ম, ধনুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের তাইজ উদ্দিনের পোল্ট্রি ফার্ম, তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের নাজমুল মিয়ার পোল্ট্রি ফার্ম ও একই এলাকার সেলিম মিয়ার পোল্ট্রি ফার্ম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক জানান, রানা পোল্ট্রি ফার্মের মালিক অনেক ক্ষমতাধর। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে অনেক সমস্যা হয়। এই পোল্ট্রির বর্জ্যের কারণে আমি পাঁচ বিঘা ধানের জমিতে চাষ করতে পারছি না। এমন আরও অনেকে তাদের জমিতে চাষ করতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে খোলা জায়গায় ফেললে যেমন পরিবেশ দূষিত হয়, তেমনি বর্জ্যে পানিতে মিশে আবাদি জমিও নষ্ট করে। এ পোল্ট্রি শিল্পে দেশ যতটা লাভবান হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার পাশাপাশি আমাদের মানবদেহে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে।

ডাক্তারা বলছেন, বর্জ্যের গন্ধ বাতাসের সাথে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। দূষিত পানিতে নামলে শরীরে ঘা ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে কৃষকরা।

বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই, যেখানে তারা পোল্ট্রির বর্জ্যে ফেলতে পারে। সবাই খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলছেন। অধিক অর্থ ব্যয় হয় বলে পাকা দালান করে বর্জ্যের গর্ত তৈরি করেন না তারা।

রানা পোল্ট্রির মালিক জেড আই জালাল বলেন, আমার পোলট্রির বর্জ্য নির্দিষ্ট গর্তে ফেলা হয়। আমার জমিতে আমি বর্জ্য ফেলব, এতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, এই পোল্ট্রি ফার্মগুলোর বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে কি না, তা তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন জায়গায় পোল্ট্রির বর্জ্য ফেলা যাবে না। আমরা খামারিদের নির্দিষ্ট গর্ত ব্যবহারে পরামর্শ দিয়ে থাকি।